পুরাকালে বারাণসি রাজ্যে ব্রহ্মদত্ত নামে এক রাজা ছিলেন। তার রাজত্বকালে উদীচ্য ব্রাহ্মণকূলে বোধিসত্ত্ব জন্মগ্রহণ করেন। বয়োঃপ্রাপ্তির পর বোধিসত্ত্ব ঋষি প্রব্রজ্যা গ্রহণ করেন। তিনি পাঁচশত ভিক্ষু সঙ্গে নিয়ে হিমালয়ের পাদদেশে বাস করতেন।
একবার হিমালয়ে ভয়ানক অনাবৃষ্টি দেখা দিল। সব জলাশয় শুকিয়ে গেল। চারদিকে পানীয় জলের বড় অভাব। তৃষ্ণায় পশুপাখি সব কাতর হয়ে পড়ল। কোথাও এক ফোঁটা জল নেই। পশুপাখিদের এই যন্ত্রণা দেখে এক ভিক্ষুর মায়া হলো।
ভিক্ষু একটা গাছ কাটলেন। সেই গাছের ডাল দিয়ে একটা ডোঙ্গা তৈরি করলেন। ডোঙ্গাটি জলপূর্ণ করে তিনি পশুপাখিদের জলপানের ব্যবস্থা করে দিলেন। বনের সব পশুপাখি এসে সেই ডোঙ্গা থেকে জলপান করতে লাগল। এতে অসংখ্য জীবের প্রাণ রক্ষা পেল।
প্রতিদিন অসংখ্য প্রাণী জলপান করতে আসতে লাগল। ফলে ভিক্ষু আহারের জন্য ফলমূল সংগ্রহ করার সময় পেতেন না। ভিক্ষু তার নিজের আহারের কথা ভুলে গিয়ে দিনরাত প্রাণীদের তৃষ্ণা মেটাতে লাগলেন। এটা দেখে পশুপাখিরা চিন্তিত হয়ে পড়ল। তাদের তৃষ্ণা মেটানোর কাজে ব্যস্ত থাকার কারণে ভিক্ষু অনাহারে থেকে কষ্ট ভোগ করছেন। তারা ঠিক করল, এবার থেকে যে প্রাণী যখন জলপান করতে আসবে, তখন তার সাধ্য অনুসারে ভিক্ষুর জন্য কিছু ফল নিয়ে আসবে।

এরপর থেকে প্রতিটি পশুপাখি নিজের সাধ্যমতো আম, জাম, কাঁঠাল, মধুর, অমধুর প্রভৃতি ফল নিয়ে জলপান করতে আসতে লাগল। এভাবে প্রতিদিন এত ফল আসতে লাগল যে, আশ্রমের পাঁচশ ভিক্ষুও খেয়ে শেষ করতে পারতেন না।
সৎ কাজে ভিক্ষুটির এই আত্মোৎসর্গ দেখে বোধিসত্ত্ব বললেন, ‘দেখো, সৎ কাজের কী অদ্ভুত মহিমা! একজনের ব্রতের ফল কতজন ভিক্ষু ভোগ করছে। তাদের কাউকে আর ফল সংগ্রহের উদ্দেশ্যে কষ্ট করে বনে যেতে হচ্ছে না।’ উপদেশ: কুশলকর্ম সম্পাদনে সকলেরই উদ্যমশীল হওয়া উচিত।
অনুশীলনমূলক কাজ |
Read more